আহার বা খাদ্যাভাস কত ধরনের ও তাদের গুণ কি কি? তিন প্রকার আহার

গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তিন প্রকার আহারের কথা বলেছেন- ১. সাত্ত্বিক আহার ২. রাজসিক আহার ৩. তামসিক আহার। খাদ্যের তিনটি দোষ। জাতি, আশ্রয় ও নিমিত্ত।

আহার শুদ্ধতা সম্পর্কে হিন্দুধর্মের মতামত কি? তিন প্রকার আহার

গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তিন প্রকার আহারের কথা বলেছেন-

১. সাত্ত্বিক আহার
২. রাজসিক আহার
৩. তামসিক আহার

সাত্ত্বিক আহারের বৈশিষ্ট্য :

আয়ু, উৎসাহ, বল, আরোগ্য, চিত্ত-প্রসন্নতা ও রুচি- এসকলের বর্ধনকারী এবং সরস, স্নেহযুক্ত, সারবান্ এবং প্রীতিকর- এইরূপ আহার সাত্ত্বিক আহার। গীতা, ১৭/৮

রাজসিক আহারের বৈশিষ্ট্য :

অতি কটু, অতি অম্ল, অতি লবণাক্ত, অতি উষ্ণ, তীক্ষ্ম, বিদাহী এবং দু:খ, শোক ও রোগ উৎপাদক আহার রাজসিক আহার। গীতা, ১৭/৯

তামসিক আহারের বৈশিষ্ট্য :

বহু পূর্বে পক্ব, যাহার রস শুষ্ক, দুর্গন্ধ, বাসি, উচ্ছিষ্ট ও অপবিত্র আহার তামস আহার। গীতা, ১৭/১০

আহার শুদ্ধতা সম্পর্কে উপনিষদ বলেছে-

আহার শুদ্ধ হলে চিত্ত শুদ্ধ হয়, চিত্ত শুদ্ধ হলে সেই চিত্ত সর্বদা ঈশ্বরাভিমুখী থাকে। ছান্দোগ্য উপনিষদ, ৭/২৬

রামানুজাচার্য এস্থলে খাদ্যের তিনটি দোষের কথা বলেছেন-

১. জাতিদোষ :

এটিকে প্রকৃতিগত দোষ হিসেবে তিনি মদ্য, মাংস, রসুন, পেঁয়াজ ইত্যাদি উত্তেজক খাদ্য পরিহার করতে বলেছেন। এগুলো জাতিদোষ যুক্ত খাবার।

২. আশ্রয় দোষ :

অশুচি, অতিকৃপণ, আসুর-স্বভাব, রোগাক্রান্ত এগুলো দোষে দুষ্ট -খাদ্যবিক্রেতা, পাচক বা পরিবেশনকারীর কাছ থেকে খাদ্য গ্রহণ না করা। অর্থাৎ এগুলো আশ্রয় দোষ।

৩. নিমিত্ত দোষ :

খাদ্যে ধূলি, ময়লা, কেশ, লালা ইত্যাদি অপবিত্রতা হচ্ছে নিমিত্ত দোষ।

সূত্র: জগদীশ চন্দ্র ঘোষ, শ্রীমদ্ভগবদগীতা(বৃহৎ), পৃ. ৪৮৬


উপর্যুক্ত গুণ বিচার করলে সাত্ত্বিক আহারই সর্বাপেক্ষা উত্তম আহার।

Technologies | Learner | Barber Any questions please contact me. facebook twitter instagram whatsapp messenger external-link